ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬ , ২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাবার আদর্শে মানুষের সেবায়: ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন মহিলা কাউন্সিলর পদপ্রার্থী নুসরাত আরা স্মৃতি রাণীশংকৈলে ইসলামী ফাউন্ডেশনের যাকাত বিতরণ, অসহায়দের পাশে মানবতার হাত রাণীশংকৈলে পাটনার প্রকল্পের ফিল্ড টেকনোলজি ওরিয়েন্টশন সিনিয়রদের পেছনে ফেলে রাসিকের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন ধান রোপণের সময় বজ্রপাতে শ্রমিকের মৃত্যু পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে আরএমপি' র গণবিজ্ঞপ্তি নগরীর বুধপাড়ায় গাঁজা-সহ নারী মাদক কারবারী গ্রেপ্তার রাসিকের নতুন প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটনের দায়িত্ব গ্রহণ, মাজার জিয়ারত হযরত শাহ মখদুম রুপোশ (রহঃ) এর মাজার জিয়ারত করলেন নবনিযুক্ত রাসিক প্রশাসক নগরীর নওদাপাড়ায় বিদেশি রিভলবার ও গুলি উদ্ধার রাজশাহীতে হারানো ৪১ মোবাইল ফোন মালিকদের ফেরত দিল পুলিশ পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে আরএমপি' র সাধারণ নির্দেশনা গোদাগাড়ীতে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের আহ্বান ভূমিমন্ত্রীর রাসিকের দায়িত্ব গ্রহণ করলেন নবনিযুক্ত প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন শহিদ জিয়ার দেখানো পথে আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবো: ভূমিমন্ত্রী রাজশাহীর সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় প্রসাধনী, ফেনসিডিল ও মদ জব্দ পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে আরএমপি' র গণবিজ্ঞপ্তি রাজশাহী জেলা পরিষদ প্রশাসক হিসেবে যোগদান করলেন অ্যাডভোকেট এরশাদ গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ৫০০ জনকে গ্রেপ্তার করল ইরান ব্যায়াম হোক মজার ছলে

নিউ ইয়র্কের আদালতে ৮৩১ কোটি টাকার হোমকেয়ার জালিয়াতির দোষ স্বীকার দুই বাংলাদেশির

  • আপলোড সময় : ২৪-১২-২০২৫ ১২:০৯:৩৯ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৪-১২-২০২৫ ১২:০৯:৩৯ পূর্বাহ্ন
নিউ ইয়র্কের আদালতে ৮৩১ কোটি টাকার হোমকেয়ার জালিয়াতির দোষ স্বীকার দুই বাংলাদেশির নিউ ইয়র্কের আদালতে ৮৩১ কোটি টাকার হোমকেয়ার জালিয়াতির দোষ স্বীকার দুই বাংলাদেশির
নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিনের ফেডারেল আদালতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত জাকিয়া খান ও আহসান ইজাজ অ্যাডাল্ট ডে কেয়ার ও হোম হেলথ কেয়ারের নামে  ৬৮ মিলিয়ন ডলার ( বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮৩১ কোটি টাকা) জালিয়াতির দোষ স্বীকার করেছেন। ফেডারেল কৌঁসুলিদের ভাষ্য অনুযায়ী, হ্যাপি ফ্যামিলি অ্যাডাল্ট ডে কেয়ার  এবং ফ্যামিলি সোশ্যাল অ্যাডাল্ট ডে কেয়ার–এর মালিক জাকিয়া খান ও আহসান ইজাজ। একই সঙ্গে একটি ফিসকাল ইন্টারমিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান রেস্পন্সিবল কেয়ার স্টাফিং পরিচালনা করতেন। অভিযোগে বলা হয়, ভুয়া সেবার বিপরীতে অর্থ প্রক্রিয়াকরণের জন্য এই প্রতিষ্ঠানটি ব্যবহার করা হয়েছে।

তাদের মালিকানাধীন ব্রুকলিনভিত্তিক দুটি  প্রতিষ্ঠানে ঘুষ ও কিকব্যাকের মাধ্যমে প্রায় ৬৮ মিলিয়ন ডলার মেডিকেইড জালিয়াতির ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন। সাম্প্রতি তিনি আদালতে হাজির হয়ে নিজের দোষ স্বীকার করেছেন জাকিয়া খান ও আহসান ইজাজ। দণ্ড ঘোষণার সময় তাদের সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে পারেন। তার স্বীকারোক্তিমূলক চুক্তির অংশ হিসেবে জাকিয়া খান ৫০ লাখ ডলার বাজেয়াপ্ত করতে সম্মত হয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে একাধিক সম্পত্তি এবং তার বাড়িতে তল্লাশির সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জব্দ করা ৩ লাখ ডলারের বেশি নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার। বিচারকার্যটি যুক্তরাষ্ট্রের জেলা বিচারক নাতাশা সি. মার্লের আদালতে অনুষ্ঠিত হয়।

ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব নিউইয়র্কের যুক্তরাষ্ট্র অ্যাটর্নি জোসেফ নোসেলা জুনিয়র, বিচার বিভাগের ক্রিমিনাল ডিভিশনের ভারপ্রাপ্ত সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ম্যাথিউ আর. গ্যালিওটি, স্বাস্থ্য ও মানবসেবা দপ্তরের (এইচএইচএস-ওআইজি) তদন্ত বিষয়ক উপ-মহাপরিদর্শক ক্রিশ্চিয়ান জে. শ্রাঙ্ক, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস, নিউ ইয়র্ক (এইচএসআই নিউ ইয়র্ক)-এর বিশেষ এজেন্ট ইন চার্জ রিকি জে. প্যাটেল এবং নিউ ইয়র্ক সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (এনওয়াইপিডি)-এর কমিশনার জেসিকা এস. টিশ এই দোষ স্বীকারের ঘোষণা দেন।

যুক্তরাষ্ট্র অ্যাটর্নি নোসেলা বলেন, আজকের দোষ স্বীকারের মাধ্যমে খান প্রমাণিতভাবে এমন একটি চক্রের মূল হোতা হিসেবে দণ্ডিত হলেন, যা সরকারের স্বাস্থ্যসেবা সুরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বরাদ্দ কোটি কোটি ডলার চুরি করেছে। আমাদের অফিস ও বিচার বিভাগ সরকারি তহবিলকে প্রতারকদের হাত থেকে রক্ষা করার দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেয় এবং আসামির মতো দুর্নীতিগ্রস্ত স্বাস্থ্যসেবা পরিচালকদের বিরুদ্ধে কঠোরভাবে মামলা পরিচালনা করবে।

ভারপ্রাপ্ত সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল গ্যালিওটি বলেন, আসামি মেডিকেইডকে প্রতারণা করার একটি বিশাল পরিকল্পনা পরিচালনা করেছেন, যেখানে রোগীদের ঘুষ দিয়ে ফেডারেল স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি থেকে ৬৮ মিলিয়ন ডলারের বেশি বিল করা হয়েছে। সমাজের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের সহায়তার জন্য তৈরি সরকারি কর্মসূচিকে লক্ষ্য করে এমন প্রতারণা আমেরিকানরা মেনে নেবে না। আজকের ঘোষণাই প্রমাণ করে এই অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে আমরা আগ্রাসীভাবে মামলা চালিয়ে যাব।

এইচএইচএস-ওআইজি -এর তদন্ত বিষয়ক উপ-মহাপরিদর্শক শ্রাঙ্ক বলেন, সোশ্যাল অ্যাডাল্ট ডে কেয়ার ও হোম হেলথ সার্ভিসের উদ্দেশ্য প্রবীণদের সহায়তা করা, প্রতারণার মাধ্যম হওয়া নয়। আসামির কার্যকলাপ পরিশ্রমী করদাতাদের প্রতি অবমাননাকর এবং আমাদের দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার অখণ্ডতা ক্ষুণ্ন করে। মেডিকেইডভুক্তদের ও কর্মসূচিটিকে অবৈধভাবে শোষণকারীদের বিরুদ্ধে এইচএইচএস-ওআইজি নিরলসভাবে কাজ চালিয়ে যাবে।

এইচএসআই নিউ ইয়র্কের বিশেষ এজেন্ট ইন চার্জ প্যাটেল বলেন, জাকিয়া খান স্বীকার করেছেন যে তিনি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছ থেকে ৬৮ মিলিয়ন ডলার কল্যাণ তহবিল প্রতারণার একটি ব্যাপক পরিকল্পনায় জড়িত ছিলেন যা আমাদের দেশের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য বরাদ্দ ছিল। আজকের দোষ স্বীকার অপরাধীদের সীমাহীন কৌশল যেমন দেখায়, তেমনি এইচএসআই নিউ ইয়র্কের আধুনিক দক্ষতা ও পদ্ধতিও তুলে ধরে, যা দিয়ে আমরা তাদের থামাই।

এনওয়াইপিডি কমিশনার টিশ বলেন, ঘুষ ও কিকব্যাকের মাধ্যমে জাকিয়া খান মেডিকেইড কর্মসূচি থেকে ৬৮ মিলিয়ন ডলার চুরি করেছেন যে অর্থ সবচেয়ে অসহায়দের সহায়তার জন্য ছিল। এই প্রতারণামূলক অর্থ লুট একটি ফেডারেল স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে শোষণ করেছে, যার ওপর মানুষ নির্ভর করে। আজকের দোষ স্বীকার ন্যায়বিচারের পথে আরেকটি ধাপ।

আদালতের নথি অনুযায়ী, জাকিয়া খান দুটি সোশ্যাল অ্যাডাল্ট ডে কেয়ার সেন্টারের মালিক ছিলেন হ্যাপি ফ্যামিলি সোশ্যাল অ্যাডাল্ট ডে কেয়ার সেন্টার ইনক. (হ্যাপি ফ্যামিলি) এবং ফ্যামিলি সোশ্যাল অ্যাডাল্ট ডে কেয়ার সেন্টার ইনক. (ফ্যামিলি সোশ্যাল), পাশাপাশি একটি হোম হেলথ কেয়ার ফিসক্যাল ইন্টারমিডিয়ারি এবং ট্যানউই সার্ভিসেস ইনক., যা প্রতারণার অর্থ গ্রহণ ও আড়াল করতে ব্যবহৃত হতো। আনুমানিক অক্টোবর ২০১৭ থেকে জুলাই ২০২৪ পর্যন্ত খান ও তার নিয়োজিত মার্কেটাররা মেডিকেইডভুক্তদের হ্যাপি ফ্যামিলি ও ফ্যামিলি সোশ্যাল-এ পাঠাতেন। এর বিনিময়ে মেডিকেইডে বিল করা হলেও সেবা দেওয়া হয়নি অথবা ঘুষ ও কিকব্যাকের প্রলোভনে সেবা দেখানো হয়েছে। প্রতারণার অর্থ পাচার ও ঘুষের নগদ জোগাড় করতে একাধিক ব্যবসায়িক সত্তা ব্যবহার করা হয়।

জাকিয়া খানের কর্মচারী সহ-আসামি সিমা মেমন ও আমরান হাশমি আগে দোষ স্বীকার করেছেন এবং সাজা ঘোষণার অপেক্ষায় আছেন। আরও ১১ জন সহ-আসামি বিচার অপেক্ষায় আছেন।

ক্রিমিনাল ডিভিশনের ফ্রড সেকশনের ট্রায়াল অ্যাটর্নি প্যাট্রিক জে. ক্যাম্পবেল ও লিওনিদ স্যান্ডলার মামলাটি পরিচালনা করছেন, বাজেয়াপ্তকরণ সংক্রান্ত বিষয়ে সহায়তা করছেন ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব নিউইয়র্কের সহকারী যুক্তরাষ্ট্র অ্যাটর্নি মাইকেল কাস্তিগ্লিওনে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Rajshahir Somoy

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
হযরত শাহ মখদুম রুপোশ (রহঃ) এর মাজার জিয়ারত করলেন নবনিযুক্ত রাসিক প্রশাসক

হযরত শাহ মখদুম রুপোশ (রহঃ) এর মাজার জিয়ারত করলেন নবনিযুক্ত রাসিক প্রশাসক